Monday , 19 August 2019

এক দিনেই ২৪ প্রাণ ঝরল সড়কে

ঈদুল আজহার ছুটির রেশ এখনো কাটেনি। ছুটি উপভোগ করতে রাজধানীর মিরপুরের কিছু বাসিন্দা মিলে কক্সবাজার ও বান্দরবান ভ্রমণের আয়োজন করেন। কিন্তু ভ্রমণের শুরুতেই বাসের চালকের ঘুমের কারণে চিরঘুমে চলে গেলেন তাদের আট জন। গত বুধবার রাত ২টার দিকে মিরপুর থেকে পিকনিকের দুটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে ফেনীতে পৌঁছার পর চালক ঘুমের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে প্রাইম প্লাসের রিজার্ভ করা বাসটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়ার স্টার লাইন ব্রিক ফিল্ডের কাছে এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয় জন প্রাণ হারান। অন্য দুই জন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো ১৬ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম ভূঞা জানান, ধারণা করা হচ্ছে, চালক ঘুম নিয়ে চালাতে গিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে মহাসড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে পিকনিকের বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। নিহতরা হলেন বিক্রমপুরের অপু (৩৫), মিরপুরের ইকবাল (২৮), মাদারীপুরের রিপন (৩০), নারায়ণগঞ্জের মুন্না খান (৩০), মিরপুরের শামীম (৩০), ছাগলনাইয়ার রাধানগর এলাকার শাহাদাত হোসেন (২৮) ও বিক্রমপুরের সুজন মিয়া। এক জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আবু তাহের পাটোয়ারী বলেন, এই দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পিকনিকের আয়োজক মিরপুরের পাপ্পু জানান, ‘ভোরে যাত্রা বিরতির সময় একটি রেস্তোরাঁয় যাত্রীরা সবাই নাস্তা করেন। পরে সবাই বাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়ার পর বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।’

চার বাসের সংঘর্ষ :গতকাল বেলা ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে এক সঙ্গে চার বাসের চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম ও সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. হামিম জানান, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস কামারখন্দের কোনাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ফাইভ স্টার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পেছন থেকে ডিপজল ও এনা পরিবহনের দুটি বাস হানিফ পরিবহনের বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। চতুর্মুখী এ সংঘর্ষে হানিফ ও ফাইভ স্টার পরিবহনের বাস দুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিত্সকদের নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় আরো মৃত্যু: কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে গতকাল ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে তিন জন নিহত ও চার জন আহত হন। নিহতরা হলেন সিএনজির চালক করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের জাহিদ (৩০), যাত্রী ইটনার নয়ানগর গ্রামের তোফাজ্জল (৩০) ও ওমর ফারুক (১৯)।

ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা বিশ্বরোড এলাকায় গতকাল সকালে দুই বাসের সংঘর্ষে তিন জন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় সড়কের দুই দিকে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। নিহতরা হলেন নগরকান্দা থানার রামনগর গ্রামের ধলা ফকিরের ছেলে বাসের চালক রওশন ফকির (৪৫), রাজবাড়ী জেলার পাচুরিয়া গ্রামের লক্ষণ কুন্ডর স্ত্রী বাসের যাত্রী মিরা কুন্ড (৬০) ও অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধ (৭০)। তুহিন পরিবহনের (রাজ মেট্রো ব-১১-০০৩২) বাসটি রাজু এন্টারপ্রাইজের (কুমিল্লা জ-০৪-০০৩২) বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সখীপুরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় গতকাল ইশতিয়াক আহমেদ (১৭) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। ইশতিয়াক পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাকিল আজাদের ছেলে এবং সরকারি মুজিব কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। একইদিন সদরপুরে ঢেউখালীতে চন্দ্রপাড়া বাবুরচর সড়কে মোটরসাইকেল চাপায় আব্দুল ছত্তার মোল্যা (৩৮) নামে এক পথচারী নিহত ও মোটরসাইকেল চালক দেলোয়ার তালুকদার (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বুধবার বিকালে কোরবানির গোশত নানা-নানিকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেড়া থেকে সিএনজিতে বাঘাবাড়ী যাওয়ার সময় সাঁথিয়ার পাটগাড়ি এলাকায় একটি কোচ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে পাপিয়া নামে ৯ বছরের এক শিশু নিহত হয়। এসময় তার বাবা পান্নু (৪৫), মা কাজলী (৩৫) আহত হন। গোপালগঞ্জে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে তুহিন মোল্লা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে তুহিনের স্ত্রী সাখি বেগম (৪০) আহত হন। গতকাল ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশুসহ দুই জন নিহত হয়েছে। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ইমাদপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো শেরপুরের সিরাজ উদ্দিন (৪৫) ও শিশু জায়েদ (৬)। শিশুটির বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ইসলামাবাদ শাহ ফকির বাজার এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মোহাম্মদ কালু (৬২) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনায় ইজিবাইক (টমটম) চালকসহ আরো এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। নিহত কালু কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাপিতখালী গ্রামের বাসিন্দা। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো. আছাদুজ্জামান জানান, হানিফ পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-১২৪৭) জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে। ব?রিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বা?সচাপায় অজ্ঞাতপরিচয় (৩০) এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার নতুনহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

Comments

Check Also

তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রাতে নিহত ৫

এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ এক, ফুলবাড়ীতে এক, টেকনাফে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *