Tuesday , 4 August 2020

এবার বৃষ্টি-বন্যা-করোনায় মাছচাষিদের সর্বনাশ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মহামারি করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি আর্থিক ক্ষতি ও বৃষ্টি-বন্যায় মাছচাষিদের স্বপ্ন ভেসে গেছে। উপজেলার টাঙ্গাব ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগরের ব্রহ্মপুত্রতীরবর্তী তিনটি ফিসারির পানি উপচে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। তিনি এখন চারদিকে নেট দিয়ে বাকি মাছগুলো রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছেন।

একই অবস্থা দক্ষিণ টাঙ্গাব গ্রামের মাছচাষি সিদ্দিকুর রহমানের। ৩৫ একর জমি নিয়ে সিদ্দিকুর রহমানের ফিসারি। পানি উপচে তারও প্রায় ৮-১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। শুধু ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর ও সিদ্দিকুর রহমান নয়। বানের জলে বহু মাছচাষির স্বপ্নই ভেসে গেছে।

প্রসঙ্গত উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ, অভ্যন্তরীণ শীলা নদী, সুতিয়া নদী ও ছোট-বড় বিলে অসংখ্য মাছের খামার গড়ে উঠেছে। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে মাছের খাবার আনতে না পারায় ও যথাসময়ে ফিসারির মাছ বিক্রি করতে না পারায় অতিরিক্ত খাবার দিয়ে বহু মাছচাষি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

স্থানীয় মৎস্য অফিসের হিসাবমতে উপজেলায় দুটি হ্যাচারি, ৮০টি নার্সারি মৎস্য খামারসহ ১৬ হাজার ২০০ ফিসারি রয়েছে। এর মধ্যে মহামারি করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে ফিসারিগুলোতে মাছের খাবার আনতে না পারায় ও যথাসময়ে মাছ বিক্রি করতে না পারায় ৭২৫৫টি মৎস্য খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বৃষ্টি ও বন্যায় মাছের খামারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ণয় করা হয়নি। বন্যা দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। করোনাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের তালিকা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃষ্টি-বন্যায় মাছচাষিদের ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

Comments

Check Also

সপ্তাহের শেষে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

সপ্তাহের শেষ দিকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আজ সোমবার …