Friday , 10 April 2020

কন্টেইনার ভর্তি বিদেশি সিগারেট ধরা পড়ল বন্দরে

চট্টগ্রাম কাস্টমস দিবস উপলক্ষে কাস্টমস কর্মকর্তারা তখন উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে সিগারেট ভর্তি পুরো একটি কন্টেইনার বন্দর থেকে বের করার চেষ্টা করেছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খায়ের ব্রাদার্স। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আজ রবিবার সকালে। কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দা দলের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

পরে তাৎক্ষণিকভাবে কন্টেইনার খুলে দেখা গেল সেখানে সবগুলো অবৈধ বিদেশি সিগারেট। অথচ আমদানিকারক চট্টগ্রামের ‘বাংলা ভিনা এন্টারপ্রাইজ’ ঘোষণা দিয়েছিলেন মাশরুম আমদানির; কিন্তু কৌশলে সিগারেটের চালানটি বের করার চেষ্টা হয়েছিল।

জানতে চাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা দল এআইআর শাখার সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনুসুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাস্টমস দিবস উপলক্ষে সবাই যখন র্যালিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সময়টাকেই চোরাচালান চক্রটি বেছে নেয়। পরে দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তা বিষয়টি ধরে ফেলেন।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে আগে থেকেই চালানটি নিয়ে গোপন তথ্য ছিল। সেজন্য আমরা চালানটি লক করে রেখেছি। লক বা বন্ধ করা চালান একটি সিঅ্যান্ডএফ কিভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইনডেন্ট বা ছাড়ের অনুমতি নিয়ে কন্টেইনার বের করার চেষ্টা করল সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ভাগ্যিস আমরা চালানটি আটকাতে পেরেছিলাম। চালানটি আটকের পর সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা পালিয়েছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, এরপর জরুরিভিত্তিতে কন্টেইনারটি খুলে দেখা যায় সেখানে সবগুলো বিদেশি ব্রান্ডের সিগারেট। উল্লেখ্য, বিদেশ থেকে সিগারেট আমদানি করতে হলে বিএসটিআই অনুমতি এবং সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ লিখা বাধ্যতামূলক রয়েছে। এগুলো ছাড়া যেকোনো ব্রান্ডের সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই সিগারেটই মাশরুম ঘোষণার আড়ালে বন্দর থেকে বের করার চেষ্টা করেছিল আমদানিকারক।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাস্টমস গোয়েন্দা দল এআইআর শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দারাশিকো কালের কণ্ঠকে বলেন, মাশরুম ঘোষণায় আনা চালানটিতে বিদেশি বিভিন্ন ব্রান্ডের অবৈধ সিগারেট পাওয়া গেছে। ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনারটি খুলে কায়িক পরীক্ষা বা গণনা করা হচ্ছে। গণনা শেষ হলেই রাতে বিস্তারিত জানা যাবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার আমদানিকারক বাংলা ভিনা এন্টারপ্রাইজ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক কন্টেইনারে শুকনো মাশরুম আমদানির জন্য ব্যাংক এশিয়া থেকে ঋণপত্র খুলে। ৭৮১ কার্টনে এই মাশরুম আমদানির জন্য ৭৩৩৫ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়। চালানটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দর থেকে ‘এমভি নর্টিডার জাহাজ’ এ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। গত ৫ জানুয়ারি পণ্য চালানটির বিল অব এন্ট্রি জমা দিয়ে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার শুল্ক পরিশোধ করে আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খায়ের ব্রাদার্স। চালানটি খালাসের আগেই ধরা পড়ল কাস্টমস গোয়েন্দা দলের হাতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ যোগসাজশে কাস্টমসকে ম্যানেজ করে এই চালান অবৈধভাবে বন্দর থেকে ছাড় করার চেষ্টা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ঢাকা আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এই ধরণের পণ্য অবৈধভাবে খালাসের সাথে জড়িত। কিন্তু প্রভাব বিস্তার করে সে পার পেয়ে যেতো; এই প্রথম চট্টগ্রাম বন্দরে বড় চালান ধরা পড়ল তার। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল খায়ের ব্রাদার্স এর মালিক হচ্ছেন ঢাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এস এম এ খায়ের।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এস এম এ খায়েরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। ফলে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Comments

Check Also

সুনামগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল দম্পতির

সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে স্বামী-স্ত্রী প্রাণ …