Saturday , 21 September 2019

কাজের আশায় রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছাড়ছেন

কাজের সন্ধানে উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্প ছাড়ছেন রোহিঙ্গারা। ক্যাম্প পালানো রোধে সীমিতসংখ্যক চেকপোস্ট থাকলেও তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিমত- আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অনুপাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কম। রোহিঙ্গাদের ভাষা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ স্থানীয়দের সঙ্গে অনেক মিল। যার কারণে রোহিঙ্গারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে ক্যাম্প ত্যাগ করছে।

গতকাল শনিবার সকালে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০/১২ জন রোহিঙ্গা পায়ে হেঁটে উখিয়া স্টেশন অতিক্রম করছিল। তারা জানান, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে তারা এপারে আসেন। জনপ্রতি দুইশ’ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে কুতুপালং ক্যাম্পে যান। ক্যাম্পে আগে থেকে আশ্রয় নেয়া স্বজনদের বাড়িতে তারা থাকেন।

পুলিশের হাতে তুলে না দেওয়ার আকুতি জানিয়ে রোহিঙ্গারা বলেন, তারা প্রাণ বাঁচাতে অনেক কষ্ট করে এখানে এসেছেন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং লাওয়াদক প্রাংন্সী গ্রামে তাদের বাড়ি। গত ৪ জানুয়ারি বিদ্রোহী রাখাইন সম্প্রদায় সেনা ক্যাম্পে হামলা চালানোর জের ধরে সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যরা রোহিঙ্গাদের গণহারে গ্রেফতার, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে যুবকরা তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাই প্রাণ বাঁচাতে তারা এখানে পালিয়ে এসেছেন। রোহিঙ্গারা আরো জানান, তাদের আত্মীয়-স্বজন চট্টগ্রামের হালিশহর, পাথরঘাটা, বাকলিয়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে দীর্ঘদিন ধরে। আশা ছিল তাদের বাড়িঘরে আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টসে চাকরির চেষ্টা করবে। সমপ্রতি পুলিশ ৩১ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প থেকে পালাতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

Comments

Check Also

হাতিরঝিলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

রাজধানীর হাতিরঝিলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। হাতিরঝিল …