শুক্রবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৮

কোনো বাধাই টেকেনি শিরিনের ইচ্ছার সামনে

বাংলাদেশ জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে ১শ মিটার দৌড়ে সাত বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাতবার দেশের দ্রুততম মানবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিরিন আক্তার। শিরিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলায় ভালো ছিলেন তিনি। তাই পরিবারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের খাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
সাতক্ষীরার মেয়ে শিরিন ছেলেবেলায় তার স্কুলের প্রতিটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম হতেন। তাই তার আগ্রহ জাগে বিকেএসপির শিক্ষার্থী হওয়ার। ২০০৭ সালে যখন তিনি ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তখন  বিকেএসপির ট্যালেন্ট হান্ট ক্যাম্পে অংশ নেন অনেকটা জোর করেই। বাবা-মা এমনকি বাড়ির কেউই চায়নি শিরিন ক্যাম্পে অংশ নিক। কিন্তু তার অদম্য ইচ্ছার সামনে কোনো নিষেধই টিকতে পারেনি। এই ক্যাম্পে অংশ নিয়েই আরো গতি পায় তার ক্রীড়াবিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
শিরিন জানান, অংশ নেয়ার আগে তিনি বুঝতে পারেননি এই ক্যাম্প আসলে কি? অংশ নিয়েই তার স্বপ্ন আরো রঙিন হতে শুরু করে। ২০০৭ থেকে ২০০১৪ সাল পর্যন্ত শিরিন বিকেএসপির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি এ দেশের দ্রুততম কিশোরী হন। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্য়ন্ত হন দ্রুততম মানবী। এটা দেশের জন্য রেকর্ড। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় শিরিন প্রথম হতেন। সব ক্ষেত্রে খেলায় ভালো করার পরও বাবা-মা চাইতেন না মেয়ে খেলায় আসুক। শিরিন বলেন, যত দিন আমার শক্তি আছে ততদিনই ক্রীড়ার সাথে যুক্ত থাকব। আমি খেলার মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করি, তা আমার প্র্যাকটিস ও প্রয়োজনীয় আনুসঙ্গ কিনতে খরচ হয়ে যায়। কোনো টাকা সঞ্চয় করা যায় না। তাই ‘ভবিষ্যত্ নেই’ বলে পরিবার চায় না সন্তান অ্যাথলেটিকস এর সাথে যুক্ত হোক। শিরিন আরো বলেন, আমাদের দেশে শুধু ক্রিকেটের ক্ষেত্রে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ওদের জনপ্রিয়তা, প্রচার প্রসার এমন জায়গাতে পৌঁছেছে যে— এদের স্পন্সরের অভাব হয় না। বিসিবিও অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে। কিন্তু অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খোলোয়াড়রা সে জায়গাতে পৌঁছাতে পারেনি। সেজন্য দেশের অনেক ক্রীড়া প্রতিভা অকালে হারিয়ে যায়।
শিরিন জানান, তিনি বিকেএসপি বর্ষ সেরা সম্মাননা-২০১৪ অর্জন করেন। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। একশন এইড নারী দিবস সম্মাননা এবং অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন থেকে সুফিয়া কামাল সম্মাননা পান। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে অলিম্পিক এবং ২০১৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস-এ অংশ নেন শিরিন। স্বপ্ন দেখেন দক্ষিণ এশিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বর্ণ আনবেন বাংলাদেশের জন্য।

Comments

Check Also

কোপার আগে আর্জেন্টিনা যে প্রশ্নের সামনে

স্রোত আর্জেন্টিনার প্রতিকুলে। রাশিয়া বিশ্বকাপ পরবর্তী আর্জেন্টিনা দল নিয়ে একটু ফাটকা কাজে লাগিয়েছে। খারাপ করেনি …