Tuesday , 23 April 2019

কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই সন্দ্বীপে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। উপজেলা থেকে কোনো চিকিৎসককে শহরে বদলি না করতেও নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। তবে চারদিকে পানিবেষ্টিত দুর্গম উপজেলা সন্দ্বীপে সেই নির্দেশনার সুফল এখনও মেলেনি। এই দ্বীপের চার লাখ বাসিন্দার জন্য সুচিকিৎসা পাওয়া যেন সোনার হরিণ। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও একজনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পায়নি দ্বীপবাসী।

সন্দ্বীপ উপজেলায় তিনটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। ২০ শয্যার হারামিয়া হাসপাতালে ছয়জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন, ১০ শয্যার হরিশপুর হাসপাতালে দু’জনের মধ্যে একজন ও ৩১ শয্যার গাছুয়া হাসপাতালে আছেন ১০ জনের মধ্যে দু’জন চিকিৎসক।

এই তিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়ার আটজন বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও নেই একজনও। সব মিলিয়ে এখানে চিকিৎসক থাকার কথা ৩১ জন। তবে কখনোই একসঙ্গে এত চিকিৎসক পদায়ন করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ২২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এই দ্বীপে। তবে বছরখানেকের মধ্যেই এ সংখ্যা এসে দাঁড়ায় নয়জনে।

গত মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, গাছুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোস্তফা কামাল এক শিশুর খতনা করাচ্ছেন। আর ডা. সাইফুল ইসলাম একাই দেখছেন অর্ধশতাধিক রোগী। শুধু চিকিৎসক নয়, এ দ্বীপে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও। সন্দ্বীপে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে ১৪ নটিক্যাল মাইল সাগর পাড়ি দিয়ে তাকে আসতে হয় চট্টগ্রাম। এ জন্য দরকার সি-অ্যাম্বুলেন্স। নামেমাত্র দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও বছরের পর বছর তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের বহন করতে হয় ট্রলার অথবা স্পিডবোটে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘সন্দ্বীপে নিয়োগ পাওয়ার পরই বদলির তদবির শুরু করেন বেশিরভাগ চিকিৎসক। কেউ কেউ মন্ত্রীকে দিয়েও সুপারিশ করান। ফলে পদায়ন করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যে আবার সংকট শুরু হয়।’ সি-অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চালক ও জ্বালানি বরাদ্দ না পাওয়ায় দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স সাগরে চালানো যাচ্ছে না। একাধিকবার চিঠি দিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগির চালক ও জ্বালানির ব্যবস্থা হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলুল করিম বলেন, সন্দ্বীপের চারপাশেই সাগর। যে কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেকে প্রয়োজনে ভালো চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে যেতে পারে না। চারটি বিভাগের একটিতেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। নিয়োগ দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের কেউ কেউ উচ্চশিক্ষার অজুহাত দেখিয়ে, কেউ বা পারিবারিক সমস্যার কথা বলে বদলি হয়ে চলে যান। তবে যারা আছেন, তাদের দিয়েই রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্বীপের ১০টি ইউনিয়নের পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র একটিতে চিকিৎসক আছেন। এ দ্বীপের সরকারি তিনটি হাসপাতালেও সরেজমিনে ভালো চিকিৎসাসেবার চিত্র পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সন্দ্বীপের হারামিয়া হাসপাতালে দেখা যায়, আউটডোরে ডা. সাইফউদ্দিন সোহাগ রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ১১ বছরেও এখানে ইনডোর সেবা চালু হয়নি। ফলে এখানকার রোগীদের অন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্দ্বীপে বর্তমানে যে চিকিৎসকরা কর্মরত, তাদের অধিকাংশের বাড়ি এই উপজেলায়। জন্মস্থানের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা দ্বীপবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন। তবে অন্য এলাকার কোনো চিকিৎসককে এখানে রাখা যায় না।

Comments

Check Also

দেরিতে ঘুম থেকে উঠলে কী ঘটে, জানেন?

অনেকেই আছেন যারা মস্তিষ্কের গঠনের জন্য রাতে লম্বা সময় জেগে থাকেন। আর সকালে দেরি করে …