মঙ্গলবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

কয়লা কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই সাড়ে তিন লাখ টন পাথর গায়েব

কয়লা কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) তিন লাখ ৫৯ হাজার ৮১৭ টন পাথরের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। যার মূল্য প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। এমজিএমসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিমাপগত ত্রুটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে গেছে বলে দাবি করেছে।
সম্প্রতি কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে গত ২৯ জুলাই এমজিএমসিএলের বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) ও মধ্যপাড়া খনির নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাবেদ চৌধুরীকে আহবায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন—পেট্রোবাংলার ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন, আনোয়ার হোসেন খান ও মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির উপ-মহাব্যবস্থাপক রাজেউন নবী।
জানা গেছে, মধ্যপাড়া খনি উন্নয়নকালীন সময়সহ ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদনে যাওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা হয়েছে ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন। গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এমজিএমসিএলের বোর্ড মিটিংয়ে উত্থাপিত রিপোর্টে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত এক লাখ ৬ হাজার ৪৮৬ মেট্রিক টন পাথর খনি ইয়ার্ডে মাটির নিচে দেবে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষ মোট তিন লাখ ৫৯ হাজার ৮১৬.৮৯ টন পাথরের মূল্য বাবদ ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৮ টাকা অবলোপন করার জন্য এমজিএমসিএল বোর্ডকে অনুরোধ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমজিএমসিএলের দায়িত্বশীল দুইজন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপাড়া খনির পাথরের পরিমাপগত ত্রুটি, সিস্টেম লস বা পদ্ধতিগত লোকসান ও মাটির নিচে দেবে যাওয়ার বিষয়ে এমজিএমসিএল বোর্ড এবং পেট্রোবাংলাকে সময়ে সময়ে জানানো হয়েছে। এতোদিনেও বিষয়টি সমন্বয় বা অবলোপন না করা দুঃখজনক। খনির অপর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০০৬-২০০৭ থেকে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর পর্যন্ত খনি বাস্তবায়নকারী উত্তর কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান নামনাম কর্তৃক উত্পাদনকালীন সময়ে পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস দেখানো হয় দুই লাখ ২৭ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরের পর আর পরিমাপগত ত্রুটি ও সিস্টেম লস নেই।  এরপর থেকে মাটির নিচে দেবে গেছে বা মাটিই খেয়ে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তিনি মনে করেন।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) জাবেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ২৯ জুলাই এমজিএমসিএলের বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয় বলে তিনি জেনেছেন। তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না এবং কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।

Comments

Check Also

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর …