বুধবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৮

জায়গার অজুহাতে সমাবর্তন হয় না

জায়গার অজুহাতে সমাবর্তন আয়োজন করছে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমাবর্তন না হওয়ার কারণ হিসেবে উত্থাপন করা হয়। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সমাবর্তনের স্থান, সময় নির্ধারণসহ পরিকল্পনা করার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর জরুরি সভা আহ্বান করে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে কেরানীগঞ্জে নিজস্ব জায়গা ভরাট করে সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছে, ডোবা ভরাট করে সমাবর্তন আয়োজনের জন্য যে কমিটি করা হয়েছে, তা আসলে লোক দেখানো।

২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর এক যুগ পার করা বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থী প্রায় ২১ হাজার। জগন্নাথ কলেজকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর কলেজ থাকা অবস্থায় ২০০৩-০৪ ও ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, ২০০৩-০৪ এবং ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে সনাতন পদ্ধতির স্নাতক উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ২৭১ শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পাওয়ার কথা। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে দুই হাজার ২৬৪ জন, ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে দুই হাজার ১৯১ জন, ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ৬০৪ জন, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ৭৯৩ জন, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ৯৩৬ জন, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ৮২৩ জন, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে এক হাজার ৫০৮ জন স্নাতক শেষ করে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছে। সেই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৪১ হাজার।

জানা যায়, ২০১৪ সালে এক নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল সনদ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ওই সুবিধা এখনো আছে।

সমাবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছে ক্ষোভ আর হতাশা। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও সমাবর্তন না হওয়া বিস্ময়কর ও হতাশাজনক। অথচ এর পরে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমাবর্তনের আয়োজন করেছে। তারা কোথায় জায়গা পায় এবং কী করে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই শিক্ষার্থীরা বলেছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সময়ে কেউ একটি পটকা ফোটাতে গেলেও গোয়েন্দা নজরদারিতে চলে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করা কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রশাসন আসলে বাড়তি ভেজাল করতে চায় না। জায়গার সমস্যা কোনো বিষয় নয়। এখন আবার কমিটি করে ডোবা ভরাট করে সমাবর্তন করার কথা বলছে। এটা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সময় বলে দেবে।’

সমাবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও কোনো কাজ হয়নি। ২০১৭ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন আন্দোলন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ গত ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা। তাতে যুক্ত হয় ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগও।

সমাবর্তন বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে পারব না। জটিলতা আছে।’

 

Comments

Check Also

সকল মানদণ্ড পূরণের পরই ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করে হাইকোর্ট

ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি সকল মানদণ্ড পূরণের পরই …