Monday , 17 June 2019

টঙ্গীতে জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি, গ্রেফতার ৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে আফতাব প্লাজার দোতলায় পোদ্দার জুয়েলারি স্টোরের মালিক প্রদীপ পোদ্দার। তবে এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি একটি ডাকাত দলের প্রধান। তার ছত্রছায়ায় থাকা ডাকাতদের লুটের মালপত্র তিনি নামমাত্র দামে কিনে নেন। তাদের কেউ ধরা পড়লে আইনজীবী নিয়োগ করে জামিনের ব্যবস্থা করেন। এমনকি ডাকাতদের ‘আয়’ না থাকলে তাদের সংসার খরচও চালান প্রদীপ। তাকেসহ দলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

গ্রেফতার অন্য পাঁচজন হলো— দুলাল হোসেন, রাসেল, জাকির হোসেন, কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগম ওরফে আজান। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া গেছে লুণ্ঠিত পাঁচ ভরি ছয় আনা স্বর্ণের গহনা, চারটি মোবাইল ফোন, ১১ হাজার টাকা, স্বর্ণ যাচাইয়ে ব্যবহৃত রাসায়নিকের দুটি বোতল, সিটি গোল্ডের ১১ জোড়া চুড়ি, সাত জোড়া কানের দুল, দুটি হার ও একটি কষ্টিপাথর।

তাদের গ্রেফতার উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, তিন বছর ধরে প্রদীপ জুয়েলারি সরঞ্জামের (গহনার বাক্স, গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত গ্যাস টিউব, সোহাগা ইত্যাদি) ব্যবসা করে আসছেন। আগে তার নিজেরই জুয়েলারি ব্যবসা ছিল। তখন লুণ্ঠিত গহনা কেনার সূত্রে ডাকাতদের সঙ্গে তার পরিচয় ও সখ্য হয়। পরে সে নিজেই একটি ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচালনা শুরু করে। প্রায় ১০ বছর ধরে সে ইয়াবা আসক্ত বলে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া গ্রেফতার দুলাল হোসেন পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। গাজীপুর ও উত্তরায় খুচরা কাপড় বিক্রির পাশাপাশি সে বিভিন্ন বাসার লোকজনের গতিবিধির ওপর লক্ষ্য রাখত। পরে সুযোগ বুঝে বাসার ভেতরে ঢুকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। ১০-১২ বছর ধরে সে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ডাকাতি করে আসছে। কিছুদিন আগে টঙ্গীতে একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে। সেও ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাদকাসক্ত। মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক সে গ্রহণ করে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ধরা পড়েছে এবং তিনটি মামলায় আড়াই বছর কারাগারে ছিল। গ্রেফতার রাসেল এই চক্রের অসংখ্য চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। সেও ৮-৯ বছর ধরে ইয়াবায় আসক্ত। এর আগে টঙ্গী থানা পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছিল। ডাকাতি মামলায় উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের হাতেও সে দু’বার গ্রেফতার হয়। অপর আসামি জাকির হোসেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি। চার বছর আগে একটি মামলায় কারাগারে থাকার সময় দুলাল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্রে সে ডাকাত দলে যোগ দেয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার কোকিলা বেগম আসামি দুলাল হোসেনের স্ত্রী এবং হাজেরা বেগম তার মা। তারা ডাকাতির মালপত্র লুকিয়ে রাখেন।

Comments

Check Also

মঙ্গলবার একাদশ সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় ও ২০১৯ সালের বাজেট অধিবেশন আগামী মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেল ৫টায় …