মঙ্গলবার , ২১ আগস্ট ২০১৮

তিন সিটিতেই ভোট উৎসবের অপেক্ষা : কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে

সোমবার রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট মহানগরের আট লাখ ৮২ হাজার ৩৬ ভোটার তাদের পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন। ইতিমধ্যে তিন সিটিতে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে।

তিন সিটির মোট ৩৯৪টি কেন্দ্রে সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে তা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ও কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় নির্বাচন হচ্ছে।

রাজশাহীতে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আরও ৫২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বরিশালে মেয়র পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯৩ জন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আরও ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সিলেটে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১২৬ জন ও নয়টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে আরও ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন সিটির প্রায় প্রতি ওয়ার্ডেই একই দলের একাধিক কাউন্সিলর পদে ভোটে থাকায় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

১৩ জুন তিন সিটির তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১০ জুলাই প্রচার শুরু করেন প্রার্থীরা। কালো টাকা, সন্ত্রাস, আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাপ ছিল ভোটের মাঠ। রোববারও ছিল পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জনমত জরিপের বরাতে জানিয়েছেন, তিন সিটিতেই জিতবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপির চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে আওয়ামী লীগ।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার জোটসঙ্গীদের পাশে পেয়েছে। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকরা তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি তার জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামীকে পাশে পায়নি। সিলেটে বিএনপির বিপক্ষে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়ে রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে জামায়াত।
এরপরেও বিএনপির দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তাদের বিজয় নিশ্চিত। দলটির নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনের নামে তামাশা করছে সরকার। খুলনা ও গাজীপুরের ধারাতেই তিন সিটির নির্বাচন আয়োজনের অপচেষ্টা চলছে। বিএনপির তিন মেয়র প্রার্থী বলেছেন, পরিস্থিতি যাই হোক, ভোটের মাঠ ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত লড়বেন।

তিন সিটিতেই বাইরের পরিবেশ শান্ত থাকলেও ভোট কেমন হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ভয় রয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা এজেন্ট সংকটে রয়েছেন। দলটির কর্মীরা ‘হয়রানির ভয়ে’ এজেন্ট হতে চাইছেন না। তিন সিটিতেই রিটার্নিং কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ভোটে অনিয়ম হতে দেবেন না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বরিশালে নৌকার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিন সিটিতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। খুলনা ও গাজীপুরের মতোই তিন সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

Comments

Check Also

মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ দেশের কোথাও কোথাও হতে পারে

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। আজ সকাল …