রবিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মেয়র খোকাসহ চারজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

মেয়র থাকাকালীন বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিং ইজারা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাসহ চারজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এরা সবাই প্রথম থেকেই পলাতক।

আজ বুধবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান মামলার রায় ঘোষণা করেন।  রায়ে খোকাকে দণ্ডের পাশাপাশি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামির প্রত্যেককে একই মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইউনিক কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন নকী, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান আজাদ ও গুডলাক কার পার্কিং এর ম্যানেজার এইচ এম তারেক আতিক।

আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মসমসর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দণ্ড কার্যকর হবে বলে রাযের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনাকারী দুদকের আইনজীবী রেজাউল করিম জানান, আসামিরা প্রথম থেকেই পলাতক। চার্জ গঠনের সময়ই জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। বিচারের জন্য এ আদালতে আসার পর তারা কেউ আসেনি। এ মামলায় তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীও ছিল না। রায়ে আসামিদের দেওয়া দণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য লেভি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিবরণে জানা গেছে, মামলার বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে পাঠানো হয়।

২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগ থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম।

তদন্ত শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর খোকাসহ চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বাদী।

চার্জশিটে বলা হয়, সাদেক হোসেন থোকা মেয়র থাকাকালীন ডিসিসির বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের বেসমেন্টের কার পার্কিং ইজারার জন্য ২০০৩ সালের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়। জমা পড়া চারটি দরপত্রের মধ্যে মিজানুর রহমান নামের ব্যক্তি বার্ষিক এক লাখ ১০ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে সাদেক হোসেন খোকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে ইজারার কার্যক্রম স্থগিত করেন। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩০ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৯ টাকা ক্ষতি হয়।

প্রসঙ্গত, জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের মামলায় ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর  ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালত খোকাকে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই মামলায খোকার ১০ কোটি ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৩২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, কিডনি, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত খোকা ২০১৪ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আর দেশে ফিরে আসেননি।

Comments

Check Also

গুলশানে মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা করায় চালক আহত

মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িতে হামলা করেছেন। শনিবার রাতে …