মঙ্গলবার , ২১ আগস্ট ২০১৮

পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ ডিমসহ মুরগীর দাম বেড়েছে

রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ডিম ও মুরগীসহ দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যের। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচে দাম বেড়েছে ৪০ টাকারও বেশী। আর দেশি পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে শুধু এ দু’টি পণ্যই নয়, দাম বাড়ার  তালিকায় আরও রয়েছে ডিম, ব্রয়লার মুরগী ও সবজি। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।
শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহে ছিল মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবেই দাম বাড়ার এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থাটির হিসেবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগীর ও ডিমের দামও বাড়তি। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা। ডিমের হালিতে ১ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৬ টাকা। তবে টিসিবির হিসেবে গত এক মাসে ফার্মের মুরগীর ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এক মাস আগে প্রতি হালি ডিমের দাম ছিল ২৪ থেকে ২৮ টাকা।
গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা ও খাসীর মাংস ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের জন্য সবজির দামও চড়া। প্রায় সবধরনের সবজিই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বেগুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাওরানবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. আলামিন বলেন, গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সবজি ও কাঁচামরিচের সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে।
মাছের দাম চড়া। রাজধানীর বাজারে ১ কেজি বা তারচেয়ে বেশী ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫’শ থেকে ১ হাজার ৮’শ টাকা পর্যন্ত। তবে ইলিশের মানভেদে দাম কমবেশী হয়ে থাকে। এছাড়া ৪’শ থেকে ৫’শ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫’শ থেকে ৬’শ টাকার মধ্যে। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির বিষয় চাষের পাঙ্গাস, কৈ, তেলাপিয়ার দাম মোটামুটি স্বস্তা রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে চাষের পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, কৈ ১৫০ থেকে ২’শ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Comments

Check Also

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত পোশাক তৈরি : আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু তৈরি পোশাক শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। …