মঙ্গলবার , ১৬ অক্টোবর ২০১৮

মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব সোর্সকে অপহরণ করলো তথ্য দেয়ায়

মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন তথ্য র‌্যাবের কাছে দিয়ে দেয়ায় এক সোর্সকে অপহরণ করা হয়। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা সোর্সকে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে খুলনার রূপসা থানায় ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি র‌্যাব-১০ তদন্ত করে তাৎক্ষণিক খুলনা পুলিশ সুপারকে অবহিত করে।পুলিশ রূপসা থানা থেকে ওই সোর্সকে উদ্ধার ও এক অপহরণকারীকে আটক করে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়।
র‌্যাব আটককৃত অপহরণকারীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো ৭ জনকে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ৬ টি গাড়িসহ গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারস্থ র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সোর্স সফিকুলের অপহরণ ও উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানান, র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী।
র‌্যাব জানায়, সফিকুল ইসলাম (৫০) বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকার পথ ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের গোপন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন র‌্যাবকে। র‌্যাবকে তথ্য দেওয়ার বিষয়টি কিছুদিন গোপন থাকলেও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা তা জেনে যান। বিষয়টি জানার পর র‌্যাবের সোর্স সফিকুলকে অপহরণ করে হত্যার পরিকল্পনা করেন মাদক ব্যবসায়ীরা। সফিকুল নিজের প্রাণ বাঁচাতে গত ১৫ এপ্রিল রাতে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ফেরি ঘাটে বাস এসে পৌঁছালে, বাস থেকে নেমে বাথরুমে যান সফিকুল। আর সেখান থেকেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা সফিকুলকে অপহরণ করেন। অপহরণের পরেই তাকে সেখান থেকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। র‌্যাবের তৎপরতার টের পেয়ে ওই চক্রটি সফিকুলকে নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে খুলনা চলে যায়। সেখানে গিয়ে ওই চক্রটি নিজেদের কাছে থাকা মাদক ও অস্ত্র দিয়ে সফিকুলকে খুলনার রূপসা থানায় গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাব-১০-এর পক্ষ থেকে বিষয়টি খুলনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানানো হলে রূপসা থানা পুলিশ সফিকুলকে উদ্ধার করে ওই চক্রের  মিলু মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করে। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক চোরাচালন ওই চক্রের আট সদস্যকে ছয়টি চোরাই গাড়িসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল খালেক (৩২), ফাহিম আহমেদ (২৮), হাবিবুর রহমান (৩২), সফিউর রহমান ওরফে লিটু (৩৪), আতিকুর রহমান (৩৩), মোখলেস মোল্লা (৩৫) ও মামুন (৩৮)।

Comments

Check Also

ববি হাজ্জাজের দলের নিবন্ধন নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের প্রাক্তন বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজের দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের …