Saturday , 8 August 2020

মৎস্যচাষিদের স্বপ্নভঙ্গ তিস্তার গ্রাসে

আকবর আলী পেশায় একজন মৎস্যচাষি। অভাব অনটনের মাঝেও ঋণ করে গড়ে তুলেছিলেন একটি মৎস্য খামার। খামারটি নিয়ে নানা স্বপ্ন ছিল তার। একদিন মাছ বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু কে জানতো অসময়ের বন্যার পানিতে ভেসে যাবে তার সেই স্বপ্ন। আকস্মিক বন্যার পানিতে ভেসে গেছে তার খামারটি। জাল দিয়ে ঘিরেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। পানির সঙ্গে ভেসে গেছে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ। এখন তিনি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।

শুধু আকবর আলী নন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নে পাঁচটি গ্রামে তিস্তার বানের পানিতে ভেসে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক মৎস্যচাষির স্বপ্ন। গত কয়েক দিন থেকে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে বাড়িঘর। ভেসে যায় মৎস্য খামারের পাশাপাশি অসংখ্য পুকুর।

আকবর আলী বলেন, সাধারণত এই সময়ে বড় বন্যা হয় না। তাই কল্পনার মধ্যেও ছিল না খামার ভেসে যাবে। কিছুদিন পরে মাছ তুলে বিক্রি করা হতো। তার পরে বন্যা আসলে তেমন ক্ষতি হতো না। খামারের চার দিকে জাল দিয়ে ঘিরে শেষ সম্বলটুকু রক্ষার চেষ্টা করেছি। কিন্তু রক্ষা করতে পারিনি। এখন আমি নিঃস্ব।

একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ইসমাঈল হোসেন বলেন, গত বন্যায় খামার ভেসে গিয়েছিল। পথে বসেছিলাম। ঋণ করে আবারো চাষ করেছি। এবারও সর্বশান্ত হলাম। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। তাই আমরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারি না।

এরশাদুল ইসলাম বলেন, আমরা তিস্তা নদীর ভাঙনে বারবার নিঃশ্ব হয়েছি। তবুও মাছ চাষ করে কোন রকমে জীবন চালাচ্ছি। কিন্তু সেটাও আর কপালে সইলো না। ভেসে নিয়ে গেল আবারো সেই তিস্তা নদী।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী ছাওলা ইউনিয়নে মোট ৬৭২টি পুকুর রয়েছে। ৬৭.৫ হেক্টর আয়তনের এসব পুকুরে ৬০০ চাষি মৎস্য চাষ করেন। প্রতিবছর প্রায় ৩০০ মে.টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপন্ন হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আমিনুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হবে।

রংপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, চলতি বন্যায় মৎস্য খাতে এখনও তেমন ক্ষতির খবর আমরা পাইনি। খোঁজ খবর নেওয়া অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য চাষিদের সচেতনতার কাজ চলছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও মৎস্য খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

Comments

Check Also

মেয়র আফজালের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন নৌ প্রতিমন্ত্রী

গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সভাপতি, রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহম্মদ আফজালের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন নৌ …