Tuesday , 4 August 2020

লালমণিরহাটে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি ৮ হাজার পরিবার

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৮ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। এসব পানিবন্দি পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারিভাবে দুটি ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ৩৫ মেঃ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে রবিবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মহিষখোচা ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় রেড এলার্ড এলাকা জারি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। আবার তিস্তা তীরবর্তী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে রাতে মাইকিংও করা হয়েছে।

সোমবার উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চারিদিকে পানি আর পানি। কোথাও কোন শুকনো জায়গা নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র গোবরধন হায়দারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও দক্ষিণবালাপাড়া ফাজিল মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে গবাদিপশুর পাশাপাশি গাদাগাদি করে চলছে আশ্রয় নেয়া মানুষের বসবাস।

সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও এখনও বিতরণ করা হয়নি। তবে দু’এক দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী জানান। এদিকে মহিষখোচা ইউনিয়নের মোনজের হোসেন চৌধুরীর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে বানভাসি মানুষের মাঝে রুটি ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে সোমবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেঃমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হলেও বাঁধটি রক্ষার জন্য এলাকাবাসী নির্ঘুন রাত কাটাচ্ছেন। সেখানে ফেলা হচ্ছ জিও ব্যাগ। ওই বাঁধটি রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।

এদিকে তিস্তা তীরবর্তী লোকজনের দাবী, আমরা ত্রাণ চাই না,বাঁধ চাই।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে ৯৬টি পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে ৮ হাজার পরিবারের বেশী পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, সরকারিভাবে ৩১ মেঃটন জিআর চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য সরকারিভাবে ৩৫ মেঃ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Comments

Check Also

সপ্তাহের শেষে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত

সপ্তাহের শেষ দিকে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আজ সোমবার …