সোমবার , ২৩ জুলাই ২০১৮

শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে সুপারিশ একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের

চলতি বছর উদ্বেগজনকভাবে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও অপমৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বক্তারা। তারা শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে একটি পৃথক শিশুঅধিদপ্তর গঠনের সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে শিশুদের বিষয়ে দেশের সব শ্রেণিপেশার জনগণকে সংবেদশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আইপিডি কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে শিশু অধিকার পরিস্থিতি: অবস্থার উত্তরণে সংসদ সদস্যগণের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) ও শিশু অধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষায় যুক্ত ২৬৯টি এনজিওর একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শিশুদের ব্যাপারে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং শিশু নির্যাতনকারীদের ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তারপরেও আমি বলবো শিশুদের উন্নয়নে পৃথক অধিদপ্তর গঠনের ব্যাপারে সুপারিশ করবো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের শিশু অধিকার আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে এই রকম একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা জরুরি এবং এই বিষয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ারম্যান মীর শওকত আলী বাদশা বলেন, শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, শিশুরা যেন কোন রকমের অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকার এবং সমাজকে সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুরা কোন রকমের অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও তাদের শাস্তি  প্রদানের ব্যাপারে সরকারকে সংবেদনশীল হতে হবে।
উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বলেন, শিশুদের জন্মনিবন্ধেনের পাশাপাশি প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি করে স্বাস্থ্যকার্ড দেয়ার কথা সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ১৮ বছরের আগে শিশুর হাতে স্মার্ট ফোন না দিতে। তারা ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার জন্য ফেসবুক, ইউটিউব ও স্মার্টফোনকে দায়ী করেন।
সভায় শিশু অধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস এর ১০জন সংসদ সদস্য অংশ গ্রহণ করেন। তারা হলেন, নাজমুল হক প্রধান, পঞ্চানন বিশ্বাস, শামসুল আলম দুদু, কাজী রোজী, কামরুন নাহার চৌধুরী, হোসনে আরা লুতফা ডালিয়া, নাভানা আক্তার, মো. মাহবুব আলি, মো. ইয়াসিন আলী ও উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এ ছাড়াও সভায় শিশু অধিকার বিষয়ক কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সিনিয়র কর্মকতাগণ অংশগ্রহণ করেন।
শিশু হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বেশ কিছু ঘটনার পরিসংখ্যান বিগত বছরের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে ‘বাংলাদেশে শিশু অধিকার পরিস্থিতি’ উপস্থাপন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেসনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, আবদুল্লা আল মামুন। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ।

Comments

Check Also

আজ থেকে পবিত্র জিলকদ মাস শুরু

দেশের আকাশে শনিবার ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ রবিবার …