শনিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সড়কে ৭২২১ প্রাণ ঝরল এক বছরে

বিদায়ী ২০১৮ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। এ ছাড়া সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮টি। এসব দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৯৬ জন। আহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৮০ জন।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশমালাও তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদের আলোকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

সমিতির প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়লেও হতাহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন।

গত বছর ২৩ জুন একদিনে ৬২ জনের প্রাণহানির খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এহেন উদ্বেগজনক হারে প্রাণহানিতে ২৫ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সড়ক নিরাপত্তায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এ ছাড়া নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপদ সড়কের অঙ্গীকারের প্রতিফলনের জন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে রেলপথে ৩৭০টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ২৪৮ জন আহত হয়েছেন। আর নৌপথে ১৫০টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ২৩৪ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৩৮৭ জন। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আকাশপথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় গত বছর ৫৫ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও যুক্ত করা হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, যানবাহনে অতিরিক্ত পণ্য বা যাত্রী বহন এবং সড়কে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। সেখানে বলা হয়েছে— ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে টিভি-অনলাইন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়ক সচেতনতামূলক বা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রাক্রসিং দেওয়া, চালকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রীবান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতিগত উন্নয়ন-আধুনিকায়ন, জাতীয় মহাসড়কে কমগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা এবং লাইসেন্স নবায়নের সময় চালকদের জন্য ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করার কথা এসেছে তাদের সুপারিশে। সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানোর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠনেরও সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড অ্যাগেনিস্ট রোড অ্যাক্সিডন্ট (এফইউএআরএ) প্রধান এবং সাবেক পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, বিএফইউজের সহ-সভাপতি ইশতিয়াক রেজা, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।

Comments

Check Also

১২০ জন ইয়াবা কারবারিদের ভবিষ্যৎ কী হবে?

ইয়াবার উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের অন্তত ১২০ জন ইয়াবা কারবারি আজ শনিবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর …