শুক্রবার , ১৭ আগস্ট ২০১৮

১৫টি মন্ত্রণালয়ে ও বিভাগে শিশু বাজেট ৬৫ হাজার কোটি টাকা

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৬৫ হাজার কোটি টাকার পৃথক শিশু বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নতুন বাজেটে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৫৫ হাজার কোট টাকা। এবার আটটি মন্ত্রণালয় ও সাতটি বিভাগের জন্য অর্থমন্ত্রী এ বাজেট প্রস্তাব করেন। এ বছর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে শিশু বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে ১৩ মন্ত্রণালয়ের স্থানে ১৫টি মন্ত্রণালয়ে শিশু বাজেট অর্ন্তভুক্ত হয়।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, নির্বাচিত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট বাজেটের অনুপাতে শিশু সংবেদনশীল চলতি অর্থবছরের ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে প্রস্তাবিত অর্থবছরে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সরকারের মোট বাজেটে শিশু কেন্দ্রিক বাজেটের হিস্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হিস্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যা  ছিল ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জিডিপির অনুপাতে শিশু কেন্দ্রিক কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দের হার গত এক বছরে ২ দশমিক ৫০ থেকে বেড়ে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে শিশু বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে শিশু উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের মূলধারায় আনা হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ শিশুকেন্দ্রিক বাজেট বরাদ্দ মোট বাজেটের ২০ শতাংশে উন্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিশুবাজেটে বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ বরাদ্দ বেড়ে জাতীয় বাজেটের ১৪ দশমিক এক শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় ‘বিকশিত শিশু: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট প্রতিবেদনে শিশু বাজেটকে শিশুবান্ধব বাজেট, শিশু সংবেদী বাজেট বা শিশুমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ বছর চতুর্থবারের মতো শিশুকেন্দ্রিক বাজেট উপস্থাপন করেন। শিশু বাজেটে অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মুহিত বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে দেশের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা বৃৃদ্ধির অন্যতম পন্থা হল শিশুদের ওপর কাঙ্খিত মাত্রায় সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। বিগত অর্থবছরে বাংলাদেশের শিশুদের ওপর মোট জাতীয় বাজেটের ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে।
ভবিষ্যতে একটি দক্ষ শ্রমশক্তি সৃষ্টি এবং নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য এ বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে মোট জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শৈশবকালীন খর্বাকৃতির হার এখনো ৩৬ শতাংশ। বাল্যবিবাহের আধিক্যও দৃশ্যমান। কিশোরী গর্ভধারণের হার বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। শিশুদের ওপর বর্ধিত বিনিয়োগ এসব সমস্যার সমাধানসহ শিশুর দারিদ্র্য বিমোচন, শিশুশ্রমের অবসান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবার যোগান, অপুষ্টি দূরীকরণ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ সহিংসতা ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে থাকা শিশুদের উদ্ধার, ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র হ্রাসের হার ব্যাপক বৃদ্ধি সত্ত্বেও এখনো দেশে ৩৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন দরিদ্র লোক রয়েছে। যাদের মধ্যে ২১ দশমিক ১ মিলিয়ন অতিদরিদ্র। অপরদিকে সম্প্রতি আয় গিনি সূচকের মাধ্যমে পরিমাপকৃত অসমতা পরিস্থিতি কিছুটা বেড়েছে।

Comments

Check Also

বিএসএফ কুপিয়ে আহত করল বাংলাদেশি রাখালকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর সীমান্ত পার হয়ে পদ্মা নদী দিয়ে গরু আনার সময় আবু তাহের …