বুধবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৮

৩ দলের ৬ নেতা মহাজোটের টিকিট পেতে মাঠে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আর বিচার-বিশ্লেষণের মাত্রাও তত বাড়ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকেই। মহাজোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে তৎপর তিন রাজনৈতিক দলের ছয় নেতা।

টাঙ্গাইলে সংসদীয় আটটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত আব্দুল মান্নান। তাঁর মৃত্যুর পর নবম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ আবুল কাশেম নির্বাচিত হন। অবশ্য আইনি জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য পদ হারান। বিজয়ী ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত বিএনপির মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে।

দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হন আলহাজ ছানোয়ার হোসেন। আর একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে বলাবলি হচ্ছে, টাঙ্গাইল-৫ আসন জাতীয় পার্টি দাবি করবে। সেই প্রত্যাশা নিয়ে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ আবুল কাশেম তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বর্তমান এমপি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন এবারও মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার আশায় গ্রামপর্যায়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এদিকে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী। প্রথমবার কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত হয়ে আর পরবর্তী দুটি নির্বাচন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তিনটি নির্বাচনেই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত হেরে যান তিনি। এবারও তিনি নির্বাচন করতে অনেক আগে থেকেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছিল, মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন এবং মহাজোটের টিকিট তিনিই পাচ্ছেন। এমনিতে তাঁর বিশাল কর্মী বাহিনী রয়েছে। তারপর দলের টিকিট পেলে তাঁর বিজয়ী হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের স্ত্রী টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ এবং টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও দলের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন।

টাঙ্গাইল-৫ আসনের আগের সব হিসাব-নিকাশ রেখে নতুনভাবে হিসাব করতে হচ্ছে ইনডেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মুনিরের কারণে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে তাঁকে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করেই তিনি দলে যোগ দিয়েছেন বলে টাঙ্গাইলে আলোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ তাদের শরিক জাপাকে আসনটি ছেড়ে দিলে এখানে মহাজোটের প্রার্থী হবেন শফিউল্লাহ আল মুনির। তবে শেষ হাসিটা কার মুখে ফুটবে তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘দলের যেকোনো নেতা মনোনয়ন চাইতে পারেন। আর টাঙ্গাইল-৫ আসন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হবে কি হবে না সে বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে সেটিই চূড়ান্ত। আমরা সেই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই কাজ করব।’

Comments

Check Also

ববি হাজ্জাজের দলের নিবন্ধন নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের প্রাক্তন বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজের দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের …